“নমো পরমাত্মনে নারায়ণ হরি ওম তৎ সৎ“
“যে জনমে নাহি নিতে পারি পরমাত্মনে নারায়ণের নাম, সে জনম হযে ওঠে পাপাত্মার খচিত বিভীষিকার জাহান্নাম। “
বাই ধর্ম প্রচারে উপরোক্ত লাইনটি ব্যবহার করুন। যারা জাহান্নামের আগুনের ভয় দেখিয়ে অন্য ধর্মের মানুষকে তাদের ধর্মের দিকে টানে, সেই আল কোরানের আয়াত গুলো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ-এর জন্য নিবেদিত। কোরানের একটি আয়াতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ বলেন যে, যিনি তোমাদের এবং তার পূর্বজন দিগকে সৃষ্টি করেছেন, সেই পালন কর্তার অবদানকে কখনো ভুলে যাবে না। সেই পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে একই সত্ত্বার অধিকারী ভাববে। নিশ্চয়ই তোমরা পরহেজগারদারপ্রপ্ত হইবে। গীতায় আপন সত্ত্বা ও নিজ গুণে মিলিত বিষ্ণূর চর্তুভুর্জরূপে প্রকাশমান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন একাদশ অধ্যায়ে পুরুষোত্তম যোগে বলেছেন যে, আমি হতেই স্মৃতি ও জ্ঞানের উদ্ভব হয়, আবার আমা হতেই স্মৃতি ও জ্ঞানের বিলোপ সাধিত হয়। আবার আমি অন্তর্জ্যামিরূপে সকল প্রনির হৃদয়ে অধিষ্টিত আছি। বেদের একমাত্র জ্ঞাতব্য আমিই, আমিই আচার্যরূপে বেদের অর্থ পরিজ্ঞাত হই। ইহলোকে ক্ষরপুরুষ ও অক্ষরপুরূষ নামে এই দুই ধরনের পুরুষ প্রসিধ আছে। সর্বব্যাপী ক্ষরপুরুষ ও কুটস্থ অক্ষর পুরুয। পরমাত্মা নামক এক উত্তম পুরুয আছেন, যিনি লোকত্রয়ে প্রবিষ্ট হয়ে আমাদের সকলকে পালন করিতেছেন। তিনি অব্যয়, তিনি ঈশ্বর। যেহেতু আমি দ্ধরের অতীত এবং অক্ষর হইতেও উত্তম, সেহেতু আমি বেদে ও লোক ব্যবহারে আমি পুরুযোত্তম বলে খ্যাত।
জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তত্ত্ব।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবত গীতা মাহাত্ম্যে উল্লেখ করেছেন যে, গীতাই তাঁর হৃদয়, সারসর্ব্বস্য, অত্যুগ্র, অব্যয় জ্ঞান (ঈশ্বর জ্ঞান), পরম গৃহ, পরম পদ এবং গীতার আশ্রয়েই তিনি ত্রিলোক পালন করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন পৃথিবীতে তার ধর্ম্মস্থাপন সম্পন্ন করে পরমাত্মা ভগবান বিষ্ণূর আহবানে নিজগুনে ও আপন সত্ত্বায় দেহত্যাগ করে বিষ্ণূর চর্তুভূজ রূপে আত্মবশ্মিকে মিলিত করেন। অর্জুন তার নিথর দেহকে দাহ করেন এবং দ্বারকা ডূবে যাওয়ার সৃষ্ট সুনামির সামুদ্রিক ঢেউ তার দেহভস্মকে ধৌত করে। সেখানে সৃষ্টি হৃদয়মণি। সেই হৃদয়মণি অজ্ঞাতস্থানে গুহামন্দিরে স্থাপণ করা হলে তা পরিণত হয় নীল মাধব। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই হৃদয়মণি হল শ্রীমদ্ভগবত গীতা। অর্থাৎ পরমাত্মা ভগবান বিষ্ণূর অব্যয় জ্ঞান মনূষ্যরূপে এই পৃথিবীতে দ্বাপরযুগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আরির্ভুত হয়েছিলেন। সেই গুহামন্দিরে স্থাপিত ধ্রুব ও অচল ব্রম্ম নীলমাধব দেবমূর্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দর্শনে যেকোন মানুষ সর্ব্বপাপ হতে মুক্ত হয় বলে, ব্যাপক সংখ্যক মানুষের পাপমুক্তি ত্রিলোকের সৃষ্টির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে পারে এই আশংকায় পরবর্তীতে দেবতাদের দাবিরমুখ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার স্বরূপের মাঝে সেই নীল মাধবকে সকলের অলক্ষ্যে অন্তর্হিত করেন। করুণার সিন্ধু ও দীনবন্ধু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কলিয্গের অবক্ষয়ের অমানিশা থেকে মানব জাতির মুক্তির লক্ষ্যে তার প্রদত্ত বিরাট কাষ্ঠ নদীতে ভাসিয়ে দেন। যা থেকে দেব বিশ্বকর্ম্মা গীতার শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপের প্রতীকি বিগ্রহ জগন্নাথ দেবের মূর্তি প্রস্তুত করেন। যিনি জগন্নাথ দেবের পুজা করেন তিনি প্রকৃতপক্ষে সর্বব্যাপী নিরাকার ঈশ্বরকেই পূজা করেন। এখানে মাঝে অবস্থিত শুভদ্রা হলেন আদি শক্তির অংশ, পাশে বললাম হলেন নারায়ণের অনন্ত নাই শয্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা আদিলেশের অংশ এবং বিগ্ৰহের বেদির দিকে তাকালে সর্ব ডানে বিষ্ণুর পূর্ণ অবতার জগন্নাথরূপী কৃষ্ণ। জগন্নাথ দেবের বিগ্ৰহটি অনন্ত শয্যায় শায়িত নারায়ণ বিগ্রহের প্রতিরূপ। পরমাত্মা অক্ষর অব্যয়। তিনি নির্গুণ ও অনাদি। অর্থাৎ সত্ত্বাদি গুণের ধারক ও প্রতিপালক। যেহেতু প্রকৃতি সকল গুনের আধার ও ত্রিগুনময়ী। গীতায় উল্লেখিত ত্রিবেদোক্ত গায়ত্রী মন্ত্র অনুসারে, পরমাত্মা প্রানস্বরূপ, দুঃখনাশক ও সূখস্বরূপ। জগতসৃষ্টিকারি ও ঐশ্বর্য্যপ্রদাতা পরমাত্মার সেই দুঃখনাশক বরনযোগ্য তেজকে আমরা ধারন করি। তিনি আমাদের বুধিকে শুভ গুন, কর্ম অ স্বভাবের দিকে পরিচালিত করেন।
|
জগন্নাথ দেবের প্রার্থনা স্তোত্র।। |
পরমাত্মনে বিষ্ণু স্তব স্তোত্র।। |
||
|
কদাচিত কালিন্দী তটবিপিন সংগীতরলো।। মুদাভীরি নারীবদন কমলাস্বাদমধুপঃ।। রমা শম্ভু ব্রম্মামরপতি গণেশার্চিত পদো।। জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।। |
সরলার্থঃ যিনি কখনও কখনও যমুনা তীরস্থ বনমধ্যে সঙ্গীত করতে করতে ভ্রমরের
মতো আনন্দ ব্রজগোপীদের মুখারবিন্দের মধু পান করেন এবং লক্ষী, শিব, ব্রম্মা, ইন্দ্র
ও গনেশ প্রমুখ দেবদেবীগণ যার চরণযুগল অর্চণা করেন, সেই প্রবু জগন্নাথদেব আমার নয়
নপথের পথিক হোন। |
ওম্ শান্তাকারং ভূজগশয়নং পদ্মনাভং সুরেশম। বিশ্বধারং গগনসদৃশং মেঘবর্ণং শুভাঙ্গম্।। লক্ষীকান্তং কমলনয়নং যোগিভিঃ ধ্যানগম্যম। |
অনুবাদঃ ভগবান বিষ্ণুকে শান্ত রূপে ভক্তরা দেখেন। তিনি ঐশ্বর্যময়
ভগবান। তাঁর নভিকমলে ব্রম্মা অবস্থান করেন। তিনি সুরেশ অর্থাৎ দেবতাদের দেবতা। তিনি
বিশ্ব অধিপতি। তাঁর গাত্র বর্ণ মেঘের ন্যায়। তিনি লক্ষ্মীদেবীর কান্ত অর্থাৎ প্রিয়।
পদ্মের মতো যার নয়ন সেই পদ্মনাভ ভগবান বিষ্ণুকে যোগীরা ধ্যান করেন। |
গায়ত্রী মন্ত্র সম্বন্ধে জানতে নিম্নের ভিডিও লিংকেক্লিক করুনঃ
একমাত্র সনাতন ব্রম্মকেই ওম বলে শুরু করতে হয়। সেই সনাতন ব্রম্মপদ বা সর্বপ্রকারে সংসার বন্ধন হইতেই উপায়স্বরূপ বিষ্ণূপদে মোক্ষ লাভ করা যায়। শ্রীমদ্ভগবত গীতা হল বিষ্ণূর পুর্ন অবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বানী। অর্থাৎ ভগবত গীতা মানেই হল বিষ্ণূর গীতা। বিষ্ণূ পূরাণ ও তার সহায়ক পুরানগুলোকেই গীতা সমর্থন করে। এর বাইরে যা গীতা সম্মত নয়, তা অসূর জ্ঞান। যারা নিজেদের ধর্ম ও কিতাবকে সেরা মনে করে, তাদের ইসলামের সেই চাঁদ-তারা প্রতীক সম্বন্ধে ভগবত গীতায় দশম অধ্যায়ে উল্লেধ আছে যে, নদ্ধত্র সমুহের মধ্যে হল চন্দ্র তা পরমেশ্বরের বিভাব মাত্র। আল কোড়ান বিকল্পভাবে সেই পরমেশ্বর কেই মোদ্ধ লাভের জন্য অনুসড়ন করতে নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সূত্র ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের এই চাঁদ-তারা প্রতীক-এর সামনে আরব মুসলিমগনদের-কে হরি ওম জপ করতে বা হরি নাম সংকীর্তন করতে দেঘা যাচ্ছে। আমি সনাতনী ভাই বোনদেরকে অনুরোধ করব, যখনি আপনারা কোন মুসলিমদেরকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাবেন, তা যেন চাঁদ-তারা প্লাকার্ড সম্বলিত পোষ্টে উল্লেধ করবেন। আল কূরানের আয়াতগুলোর মধ্যে যেগূলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানা গুরুত্বপুর্ন
সেগুলো তূলে ধড়া হল। আহসানুল আল্লাহু খালেককিন। -আল্লাহু হলেন মহান সৃস্টিদর্তা। খালেক শব্দের অর্থ সৃস্টিকর্তা এবং কিন হল বহূবচন। কুলহু আল্লাহু আহাদ। - তিনি তাদেরি মধ্যে একজন। আল্লাহু সামাদ- হুদ জাতির তিন জন দেবতা হলেণ সামাদ, সুদ এবং সামিদ। তাদের মধ্যে সামাদ হলেন প্রধান। তাই তিনি সামাদ।
ইসলাবের দৃষ্টিতে মুশরিক (যারা আল্লাহকে শরিক করেন), মুরতাদ (যারা কোঁরানের একটিও আয়াতকেও মান্যতা করে চলে না), নাস্তিক, আহেলী কিতাবধারিগন ( গীতাকে এর মধ্য অন্তর্ভুক্ত করে না ), অবাধ্য স্ত্রীলোকগ্ণ। তাই এই সকল লোকদের (শুধু মাত্র নাস্তিকগন বাদে সবার ধর্মবিশ্বাসে একমাত্র পাথেয় হতে পারে বৈষ্ণবতন্ত্র। যে বৈষ্ণবতন্ত্র হতে পারে তাদের বাস্তবিক জটিল জীবনের চলার পথে জটিল সমস্যা সমাধান সহ আলকোরানের উপরোক্ত পালনকর্তা প্রতি গুনকীর্তন করা সম্পর্কিত আয়াত অনুসারে পারলৌকিক মোক্ষলাভের সর্বৎকৃষ্ট পন্থা। ভগবত গীতায় নবম্ম অধ্যায় উল্লেখিত যে পরমাত্মা বা পালনকর্তা স্বয়ং বলেছেন যে, পরমাত্মা সর্বভুতের পক্ষেই সমান । তা দ্বেষ্যও নেই, প্রিয়ও নেই। যার ভক্তিপুর্বক পরমাত্মার ভজনা করেন, তাঁহারা পরমাত্মাতে অবস্থান করেন এবং তিনিও সে সকল ভক্তেই অবস্থান করেন। স্ত্রী লোক, বৈশ্য ও যারা পাপ যোনিসম্ভূত তারাও তারাও তার আশ্রয় আশ্রয় লইলে পরমগতিপ্রাপ্ত হয়। গীতার দশম অধ্যায়ে আরও উল্লেখ আছে যে, স্ত্রী লোকদের মধ্যে শ্রী, কীর্ত্তি, স্মৃতি, মেধা, ক্ষমা, সরলতা প্রভৃতি দেবতাসূহ তার বিভাব মাত্র। প্রকৃতিই পরমাত্মার গর্ভাধান স্থান, পরমাত্মা তাতে গর্ভাধান করেন, তা হতেই সর্ব্বভূতের উৎপত্তি হয়। পরমাত্মার সনাত্ন অংশ জীব হয়ে প্রকৃতিতে অবস্থিত মন ও পঞ্চেন্দ্রিয়কে সংসারে আকর্ষন করে থাকে। বায়ূ ্যেমন পুষ্পাদি হতে গন্ধবিশিষ্ট সূক্ষ্ণ কণাসমূহ নিয়ে যায়, তদ্রুপ জীব যখন এক দেহ পরিত্যাগ করে অন্য দেহে প্রবেশ করে, তখন এই সকল পঞ্চ ইন্দ্রিয় ও মনকে সঙ্গে নিয়ে যায়। কোরানে যে সকল ক্ষুদ্র দেবতাদের কথা উল্লেখ আছে যেমনঃ লাত, মানাত, উজ্জাহ উনারা গীতা শাস্ত্রে অন্তর্ভুক্ত নন। ক্ষুদ্র দেবতাদের বিষয়গূলো আমাদের সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রে হীন ভাবে জুড়ে ইসলামিক মৌলবাদ চক্রান্রকারিরা গোটা হিন্দু সমাজকে ইসলামের মুখোমূখি কাফের হিসেবে দাঁড় করানোর হীন রাজনেতিক কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করতে হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত। গীতা শাস্ত্র জ্ঞানের অভাবে আমাদের হিন্দু ছেলেময়েরা যথাযথ উত্তর দিতে অসমর্থ। গীতার নবম অধ্যায়ে উল্লেখিত এই ত্রিভুবনে নিম্নলিখিত উপাসনা পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
কেহ কেহ জ্ঞানযজ্ঞ দ্বারা ঈশ্বরের ত্তত্বালোপচনায় আরাধনা করেন।
কেহ কেহ উপাস্য উপাসকের অভেদ চিঁন্তাধারার দ্বারা আরাধনা করেন।
কেহ কেহ পৃথক পৃথক ভাবে অর্থাৎ দাস্যাদিভাবে ইশ্বরের উপাসনা করেন। মুসলিমদের নামাজে অন্তর্ভুক্ত অল্লাহ মাবুদ-যার অর্থ সে ছাড়া
তাদের অন্য কেউ উপাস্য নেই। অর্তাৎ নামাজ এই প্রকারের উপাসনা পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত।
তাদেরকে তাদের মহান সৃষ্টকর্তার দাস হিসেবেই উপাসানা করা ও ড়ার প্রনীত বিধিবিধান
মেনে জীবন যাপন করতে হবে। তিনি সন্তুষ্ট হলেঈ তার প্রনীত স্বর্গধাম যা বেহেস্ত হিসেবে
অলকুরানে উল্লেখিত, সেধানে মুসলমানদেরকে যেতে হবে। সেখানে অন্য উপাসকের উপাস্যদের
গ্রহন করার সূযোগ নেই। অন্য দর্মাবলম্বীদের এসব শুনে অতংকিত হওয়ার কিছূ নেই। এটা গীতার
বর্নিত পালনদর্তার বিধান মতো সত্য। গীতা সাক্ষ্য দেয় যে, যারা ইন্দ্রাদি দেবতাগনের
পুজো করেন, তার দেবলোকপ্রাপ্ত হন। শ্রাদ্ধাদি যারা যারা পিতৃগনের পুজো কড়েন তারা
পিতৃলোকপ্রাপ্ত হন, যারা যক্ষরক্ষাদি ভূতগণের পুজো করেন তারা ভূতলোকপ্রাপ্ত হন এবং
ভাগবান বিষ্ণূ
এবং তার দশ অবতারের উপাসনা যারা
করেন তারা বৈকুন্ঠঢমপ্রাপ্ত হন, যেখানে গেলে কাউঁকে ফিরে আসতে হয় না। কারন ব্রম্মলোক
পর্যন্ত সবাইকে ফিরিয়ে আসতে হয়।
কেহ কেহ ঈশ্বরের সর্বময়, সর্বাত্মা সত্বাকে নানাভাবে (ব্রম্মা, রুদ্র ইত্যাদি দেবতারুপে ) উপাসনা করেন। সকল দেবতার পুজার শুরুতে নিরাকার ও নির্গুন নারায়নের যার আরেক নাম ভগবান বিষ্ণূ তার পুজা করা হয় এবং যে নির্দিষ্ট দেবতা পুজোর জন্য নিবেদিত উপাচারসমুহ নারায়নের পুজার দ্বারা অভিষিক্ত করে সেই উপাচারসমুহ দ্বারা পুজোর আরাধ্য নির্দিষ্ট দেবতাকে উপাসকের দ্বারা সংবর্ধিত করা হয়। নির্দিষ্ট দেবতার অঞ্জলির পুর্বে যে হোম ও যজ্ঞ করা হয় তা আবার নারায়নের নামেই করা হয়। কারন মেঘ হতে অণ্ণ জণ্মে, যজ্ঞ হতে আসে মেধ, কর্ম হতে যজ্ঞ এবং কর্ম বেদ হতে সৃষ্টি। আবার বেদ নিরাকার ও নির্গুন পরব্রম্ম হতে সমুদ্ভুত। যেহেতু তিনি সর্ব যজ্ঞের ভোক্তা ও ফলদাতা।
আরো পড়ুন বিষ্ণু পুরাণে সৃষ্টিতত্বকে জানার জন্য।
তাই সকল জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মুল আঁধার গীতাকে প্রাত্যহিক কর্ম হিসেবে স্নানের পর অধ্যায়ন করি এবং যেহেতু গীতায় অষ্টাদশ অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যিনি গীতা অধ্যয়ন করেন ও সঠিক গীতা ব্যাখ্যা প্রচার করেন, তার অপেক্ষা প্রিয় আর কেউ কখনো হবে না। তিনি আরও বলেছেন যে, সর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করে তুমি আমারই শরনাপন্ন হও, আমি সত্য প্রতিদ্দাপূর্বক বলিতেছি যে, আমি তোমাকে সর্ব পাপ হতে রক্ষা করব। তিনি অলব্ধ বস্তুর সংস্থান ও লবদ্ধ বস্তুর রক্ষণ করে থাকেন। গীতায় পরিশেষে সঞ্জয় বলেছেন যে, এখানে নিহিত রয়েছে অখন্ড রাজনীতি যা মহাভারতকেই বিনির্মাণ করে। তাই আসূন ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে চালিকা শক্তিরূপে গীতার বানীই হবে একমাত্র আঁধার।
গীতায় ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ অধ্যায়ে পরমেশ্বর ভগবান বলেছেন, এই নশ্বর দেহ ক্ষেত্র, দেহ মধ্যস্থ আত্মা হল ক্ষেত্রজ্ঞ। এর বাহিরে অধিযজ্ঞ হল দৈব শক্তি। এ ক্ষেত্রে আমার অভিমত হল, আপনি যখনি কাউকে নমষ্কার বলবেন তা তার দেহস্থিত অধিযজ্ঞকে উদ্দেশ্য করে করা হয়। সকল শান্তির স্বরূপ হল অধিযজ্ঞ। তবে ক্ষেত্রজ্ঞের সংগে অধিযজ্ঞের সংযোগ স্থাপিত হয় যখন সত্ত্বগুন প্রবল হলে। রজোগূন প্রবল হলেও চলবে। তবে তমোগুন প্রবল হলে সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই যে সকল বিধর্মীরা নমষ্কার বললে তা গর্হিত কাজ বলে মনে করে, এ বিষয়ে তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাই তাদেরকে বিরূপ মন্তব্য করতে উৎসাহিত করে। পাপাচারি ব্যক্তিগনের প্রতি নমষ্কার সম্বোধন এ ক্ষেত্রে কোন কাজে আসে না, যেহেতু তাদের হৃদয়ে ক্ষেত্রজ্ঞ ও অধিযজ্ঞের মধ্যে কোন সংযোগ থাকে না। ক্ষেত্রজ্ঞ ও অধিযজ্ঞের মধ্যে সংযোগ থাকলে অধিযজ্ঞের দ্বারা সৃষ্ট শান্তি দেহমধ্যস্থিত ক্ষেত্রজ্ঞের দিকে চালিত হয়।
হিন্দুরা বৈষ্ণবতন্ত্রে ঈমান আনলেই তবে তার পূনর্জন্ম নেই। প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা আমাদের ধর্মের মূল একটি স্তম্ভ। তা না হলে কিয়ামত আবধারির। এটীই হল ঐশ্বরিক শক্তি প্রকোঁশল।
সনাধর্মে পরমাত্মার প্রতি স্তূতি নিবেদনার্থে পঠিত ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মন্ত্রসমূহঃ
ভগবান বিষ্ণুর বা নারায়নের পূর্ন অবতার হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চতুর্থ অধ্যায় থেকে আপন সত্ত্বা ও নিজ গুনে ভগবান বিষ্ণুর চর্তুভূজরুপে প্রকাশমান দশম অধ্যায় থেকে বলেছেন যে, সপ্তর্ষিদের মধ্যে আমি ভৃগু। সুতরাং মহর্ষি ভৃগু যা বলেছেন, সেতাই সত্য। ভগবান বিষ্ণু সম্বন্ধে অন্য গ্রন্থে তাকে ছোট করার জন্য যা লিখা আছে তা অসুর জ্ঞান। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মৃত্যুর সময় আপন সত্ত্বা ও নিজ গুনে ভগবান বিষ্ণুর চর্তুভূজরুপ সত্ত্বার মধ্যে বিলীন হয়েছেন। কোন মহামানব এরকম আপন সত্ত্বা ও নিজ গুনে ঐশ্বরিক শক্তিতে নির্বান লাভ করতে পারে না। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হলেন জগতপালক বিষ্ণু যিনি জগন্নাথদেব রুপে নারায়নের একই রুপ। আবার সেটিই রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ। নারায়ন আর শ্রীকৃষ্ণকে এক সত্ত্বারুপে যারা দেখেন না, তারা প্রকৃতপক্ষে অসূর জ্ঞানই প্রচার করেন। যখনই ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের প্রার্দুভাব ঘটে, তখনি সাধুগনে রখায় ও দুষ্টদিগকে বিনাশের জন্য আপন প্রকৃতিতে স্বীয় মায়ায় যুগে যুগে নিজেকে বার বার সৃষ্টি করেন। তাই বলে সব কিছু ত্যাগ করে এককভাবে জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে চলে আসেন না।
তাই ধর্ম্মান্তরিত রোধ করতে সঠিক ধর্ম প্রচার করুন। মানব গুরুর প্রচারিত বানীর চাইতে গীতার বানীই সেরা গুরু।
হিন্দু ধর্মে-এ পশু বলি সম্বন্ধে যে ত্তত্ব উপরে উল্লেধ করা হয়েছে তা রাম বা সীতার দ্ধেত্রে সম্পুর্নভাবে মিথ্যা। একজন বামধারার বিশ্লেষক বৈষ্ণববাদের সত্ত্বা জনগনের মাঝ থেকে সরিয়ে সেখানে বাম ভাবধারা চাপিয়ে দিতে সচ্চেষ্ট হয়েছেন। নিরানিষ ভোজী ধ্যানধারনা ও জীবনযাপন ভিত্তিক দর্শনই হল আমাদের বৈষ্ণববাদের মুল সত্ত্বা। বিষ্ণূ বা নাড়ায়ণ পূজোয় বা লধী বা স্বর স্বতি পূজোয় বা কৃষ্ণ বা রামের পূজোয় কোনক্রমে পশু বলি দেওয়া হয় না। আগে বিষ্ণূ পুজা করে তারপর সনাতন শাস্ত্র অনুসারে নির্দেশিত দেবদেবীর পুজা দেওয়া হ্য। এ সব বাম ধারার লেখক বা গবেষকরা এই উপমহাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যগুলোকে মিথ্য ও বানোয়াটভাবে তুলে ধরে যাতে মানুষ সেসব থেকে ভুলে গিয়ে কৃত্রিমতার দিকে ধাবিত হয়। এতেই তাদের বড় সূবিধা। কারন যাতে মানুষ নিজস্ব সংষ্কৃতিকে ভুলে গিয়ে বৈদেশিক তত্ত্বকে মনেপ্রানে গ্রহন করে।
সাংখ্যবাদীদের জণ্য কর্ম যোগ এবং কর্ম যোগীদের জণ্য কর্মযোগ মঙ্গলকর। কর্ম ত্যাগহেতু কর্ম সন্ন্যাস দুঃখের কারন হয়। কর্ম করিবার জন্য অস্থির চিত্তে দ্রুত ফলi পাওয়ার আশা করতে হয় না। আমরা ব্যাচালর ডিগ্রীর পর কোন একটি বিষয়ের উপর চাকরিতে প্রবেশ করি। বার বা পনের বছর পর পরিশ্রম ও সাধনার দ্বারা ঐ বিষয়ের প্রতি সম্যক ধারনা লাভ করি। সেটাকে আরো উৎকর্ষ সাধনের জন্য চর্চা করি। তারপর আমাদের মধ্যে উক্ত বিষয়ে দর্শন চর্চা ও স্থিরতা মনের মধ্যা চলে আসে। তর অর্থ হল তখন আমি বিজ্ঞান সহিত বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে আবির্ভূত হই। ঐ পর্যায়ে পৌছানো মানেই জ্ঞানের চরম মার্গ আমরা দর্শন করেছি। যে ব্যক্তির জ্ঞানে মৌলিক স্তরে পৌছাতে পারে, কল্যানমুলক কাজের দ্বারা সে পরমাত্মা বা পালনকর্তার সংগে সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। অর্থাৎ সে ব্রাম্মীস্থিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিত হল, কাম মানুষের জীবনে প্রবল শত্রূ। পঞ্চ ইন্দ্রিয় কামের আঁধার স্বরুপ। ইন্দ্রিইয়ের উপর অবস্থিত মন এবং মনের উপর অবস্থিত বুদ্ধি। বুদ্ধির উপর অবস্থিত অত্মা। তাই বূদ্ধির সাহায্যে পরমাত্মা বিষয়ে সম্যক ধারনার দ্বারা অর্জিত আত্ম শক্তিই আত্মাকে দুর্নিবার শত্রু কামকে একমাত্র উপায় হিসেবে বিনাশ করতে সহায়তা করবে এবং আত্মা ধীর অ নিশ্চল হবে। এর ব্যতীত চঞ্চল চিত্তে জীব বিষয় চিন্তা করতে করতে আসক্তি জণ্মে। আসক্তি হতে উৎশারিত কামনা প্রতিরোধপ্রাপ্ত হলে প্রতিরোধকের প্রতি ক্রোধ জণ্মে। ক্রোধ হতে মোহ, মোহ হতে স্মৃতিভ্রংশ, স্মৃতিভ্রংশ হতে বুদ্ধিনাশ এবং বুদ্ধিনাশ হতে বিনাশ ঘটে। যার মন আত্মবশবর্তী, তদ অনু্যায়ী তিনি অনুরাগ ও বিদ্বেষ হতে বিমুক্ত এবং তিনি আত্মবশীভূত ইন্দ্রিয়সকল দ্বারা বিষয় উঁপভোগ কড়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। আত্মপ্রসাদ দ্বারা দুঃখের নিবৃত্তি হয়। প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তির পরমাত্মতে স্থিতি লাভ ক্করে। অর্থাৎ ব্রাম্মীস্থিতিপ্রাপ্ত জীবের আর মোহ হয় না, প্রয়াণকালেও এই অবস্থাপ্রাপ্ত থাকিয়া তিনি ব্রম্মনির্বাণ বা ব্রম্মে মিলনরুপ মোক্ষরূপ বিষ্ণূপদ লাভ করেন। বিষ্ণূ পূরাণ ও শিব পূরাণ মতে তিনি হলেন দিব্য পরম পূরুষ, যাকে পেলে আর পুনর্জণ্ম হয় না।
স্বর্গীয় জ্যোতি ও আনন্দ উঁপলদ্ধির প্রতীক ‘ওম’ স্পদ্দিত হোক তোমার হৃদয়ে অনন্ত কালের জণ্য।-যর্জুবেদ#(২.১৩)হরি ওম তৎ সৎ । শ্রী হরিকে শ্রেষ্ট মেনে ওম ধ্বনি উচ্চারন -এ মোক্ষলাভের উপায় অবধারিত থাকে। যিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহর্ত্তা, তিনিই এক এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। তিনি দেব ও মনুষ্য সৃষ্টির আদি কারন।
বিস্তারিত জানতে নিম্নের ১ম ভিডিও লিংকে ক্লিক করুনঃ
বিস্তারিত জানতে নিম্নের ২য় ভিডিও লিংকে ক্লিক করুনঃ
বিস্তারিত জানতে নিম্নের ৩য় ভিডিও লিংকে ক্লিক করুনঃ
বিস্তারিত জানতে নিম্নের ৪র্থ ভিডিও লিংকে ক্লিক করুনঃ
বিস্তারিত জানতে নিম্নের ৫ম ভিডিও লিংকে ক্লিক করুনঃ
পরমাত্মা তত্ত্বই মোক্ষের একমাত্র পথঃ
শ্রীমদ্ভগবতগীতায় অষ্টাদশ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে, যে জ্ঞান দ্বারা
পরস্পর বিভক্তভাবে প্রতীয়মান সর্বভূতে এক অব্যয় অব্যক্ত বস্তু (পরমাত্মাতত্ত্ব )
পরিদৃষ্ট হয়, তা সাত্ত্বিক জ্ঞান। যে জ্ঞানের দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন ভূত সমূহে পৃথক পৃথক
ভাবের অনুভূতি হয় তা রাজস জ্ঞান এবং যা প্রকৃত তত্ত্ব না বুঝে সেটাকেই সমস্ত কিছু
এইরূপ বুদ্ধিতে কোন একমাত্র বিষয়ে আসক্ত থাকে, সেই যুক্তিবিরূদ্ধ, অযথার্থ, তুচ্ছ
জ্ঞানকে তামস জ্ঞান বলে। সাত্ত্বিক জ্ঞানে স্বর্গলাভ, রাজস জ্ঞানে পুনরায় এই জগতে
ফিরে আসতে হয় এবং তামস জ্ঞানে পশ্যাদি বা অসুর যোনিতে জন্ম নিতে হয়।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
প্রতিবেদক, প্রকৌশলী ডি পি সূব্রত।
সূত্র: শ্রীমদ্ভগবতগীতা- শ্রী জগদীশ চন্দ্র ঘোষ।
কিভাবে একজন মুসলিম কে সনাতন ধর্মে ফিরিয়ে আনতে পারবেন তার একমাত্র ও সহজ উপায় আপনারা নোট করে রাখুন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা মূলে ধরছি। যাবুর হল মাবুদ আল্লাহর অর্থাৎ মহান সৃষ্টিকর্তা যাকে মুসলিমদেরকে দাস্যাদিভাবে অর্থাৎ সে ব্যাতীত তাদের সাধন পদ্ধতি নামাজে আর অন্য কোন ঐশ্বরিক বিভাবকে আরাধনা করার সুযোগ নেই। কিন্তূ গীতা হল পরমাত্মার শ্বাশ্বত বাণী যিনি আমাদের পালন করেন, তাকে একমাত্র গতি হিসেবে মেনে সকল কর্তব্যকে তাঁরই কর্মবোধে সম্পন্ন করতে হয়, বেদের একমাত্র জ্ঞাতব্য তিনি। পালনকর্তাই দেব ও মনুষ্য সৃষ্টির আদি কারণ। তিনি সৃষ্টিকর্তারও গুরু। পরমাত্মার কারণে জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। আবার তার কারণে জ্ঞানের বিলোপ সাধিত হয়। তিনিই সকল প্রাণীর হৃদয়ে অন্তর্য্যামীরূপে অধিষ্ঠিত থাকেন। মুসলিমদের সর্বব্যাপী ক্ষরপুরুষ হলেন তাদের একমাত্র রাসুল আর কুটস্থ অক্ষর পুরুষ হলেন মহান সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ। ক্ষরের অতীত ও অক্ষর হতে উত্তম পুরুষ যিনি বেদে একমাত্র জ্ঞাতব্য ও পুরুষোত্তম। তিনি এক এবং নিরগুণ অর্থাৎ সত্ত্বাদি গুণের ধারক ও প্রতিপালক। তিনি প্রকৃতির অতীত, সুক্ষাতি-সুক্ষ। প্রকৃতি হল সকল শক্তির আঁধার। অর্থাৎ শক্তিতে সত্ত্ব, রজো ও তমোগুণ বিদ্যমান। পরমাত্মা শুধুমাত্র সত্ত্ব গুণই ধারন ও প্রতিপালন করেন। শ্রীমদ্ভগবতগীতায় দশম অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, নক্ষত্র সমূহের মধ্যে স্বয়ং পালনকর্তা চন্দ্র। অর্থাৎ ইসলামের চাঁদ-তারা প্রতীকে ঐশ্বরিক সত্ত্বা হল পরমাত্মার ই বিভাব মাত্র।আলকোরানের মতে তাই ইসলামের চাঁদ-তারা প্রতীক সামনে রেখে পালন কর্তার গুণকীর্তন করার কারনে কোন মুসলিম বেহেস্তে যেতে না পারলে পালনকর্তার কৃপায় তার স্বর্গীয় ধামে স্থানান্তরিত হয়ে নিশ্চিতভাবেই পরহেজগাদারপ্রাপ্ত হবেন। কারন পরমাত্মার কোন দ্বেষ্যও নেই, আবার তার কোন প্রিয়ও নেই। একমাত্র অনন্য ভক্তি দ্বারা তাকে জানা যায়, তার মাঝে প্রবেশ করতে পারা যায়। মুসলিমরা ঈমানদার তখনই যদি সে বর্তমান কঠিন জীবনের বাস্তবতা সত্ত্বেও কোরানের বিধানসমূহ পরিপূর্ণভাবে পালন করতে সমর্থ হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে কি করা উচিত, তাতে কোরান পালনকর্তার গুণকীর্তনে নির্দেশনা দেয়। আল কোরান স্পষ্টভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তা আলাদা বিভাব হলেও তাদের সত্ত্বা এক। যার অর্থ হিসেবে কোরান বলছে তাদেরকে আল্লাহ হিসেবেই জানবে। অর্থাৎ শ্রীমদ্ভগবত গীতা অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার গুরু বলে পরমাত্মা হলেন মহান আল্লাহ আর মাবুদ আল্লাহ হলেন মহান সৃষ্টিকর্তা। আহ্সানুল আল্লাহু খালেককিন।খালেক অর্থ সৃষ্টিকর্তা এবং কিন অর্থ বহুবচন। তাই মাবুদ আল্লাহ মহান সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহকে উপরোক্ত দুই বিভাব সমূহকে এক সত্ত্বায় বিবেচনা তিনি আল্লাহু আকবর। অর্থাৎ মুসলিমরা শুধু শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন, নারায়ণ পূজা, একাদশীব্রত পালন, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালন, রাস উৎসব পালন, ঈদুল ফিতর পালন এবং রাস উৎসব পালন। প্রত্যহ তারা গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ ও শ্রীমদ্ভগবতগীতা পাঠ করতে পারবে। আপনি শুধু চিন্তা করবেন কি করে মুসলিমদেরকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনতে পারবেন সেটা করতে পারবেন তা শ্রীমদ্ভগবতগীতা ভালো করে আত্মস্থ করলে ও আল-কোরআন-এ গীতার মৌলিক রেফারেন্সে মিল খুঁজে পেলে তবেই তা পারবেন। অন্য কোন কিছুকে তারা গ্ৰহণ করতে রাজি নয়। আমি অনেক হিন্দু ছেলে মেয়েদের কথা শুনেছি যারা বাসায় খুব পূজা অর্চনা কর, কিন্তূ মওলানা সাহেব যখন তাকে কেন সে মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন না, এ গুলোর ব্যাপারে সে যখন উত্তর দিতে পারে না, তখন সে ভয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে। কিন্তূ আমাদের উত্তর হবে হিন্দুরা কখনও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জান্নাতে যাবে না। ওটার মালিক তিনি। যারা দেবতাদের পূজা করবেন তারা দেবলোকে যাবেন। যারা পরমাত্মা বা পালনকর্তাকে একমাত্র গতি হিসেবে মেনে নেয় তারা বৈকুণ্ঠধামে যাবে যেখানে গেলে মোক্ষপ্রাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ আর পুনঃজ্জ্বন্ম নিতে হয় না। আপনি গীতার তত্ত্বীয় বাণী জানলে অবশ্যই বলতে পারতেন যে, আমি জান্নাতে যেতে চাই না। আমি বৈকুণ্ঠধামে যেতে চাই। আমাদের সংখ্যা বাড়াতে গেলে আগে শ্রীমদ্ভগবতগীতা তত্ত্ব জানার মাধ্যমে নিজের মধ্যে সনাতন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবেই এদেশ হিন্দুদের সংখ্যা বেড়ে যাবে। কিন্তূ ধর্মাচরণের মাধ্যমে সন্ন্যাসী সংখ্যা বৃদ্ধি করতে নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কখনও সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী ছিলেন না এবং আমরা তাকে অনুসরণ করি। তিনি গীতায় স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কর্ম ত্যাগ সেতু কর্মসন্ন্যাস দুঃখের কারণ হয়। সেই সাথে আপনাদেরকে অনুরোধ করব যে, আপনারা অবশ্যই শ্রীজগদীশ ঘোষ কর্তৃক একমাত্র নির্ভেজাল ভাবে অনুবাদিত শ্রীমদ্ভগবতগীতা প্রতিদিন মাহাত্ম্য সহিত এবং অর্থ সহকারে স্নানের পর পাঠ করবেন।


Post a Comment